বুধবার, নভেম্বর ২৫, ২০২০

শিরোনাম

  ঢাকা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় দৈনিক কালের কথা পত্রিকার জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা,উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ০১৭০১৭০৩৪৪২ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

হুন্ডির মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন?


হুন্ডির মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন?

প্রকাশিতঃ বুধবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৭   পঠিতঃ 315819


কাতার প্রবাসীদের অনেকে এখনো হুন্ডির মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন। যাঁরা নিয়মিত এই অবৈধ মাধ্যম ব্যবহার করে পরিবার ও স্বজনের কাছে টাকা পাঠাচ্ছেন, তাঁদের যুক্তি হলো, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠালে রিয়ালের বিনিময়ে টাকার রেট অন্যান্য এক্সচেঞ্জের চেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
কাতারের স্থানীয় আইন ও বাংলাদেশের আইন অনুসারে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠানো অবৈধ। এতে দেশের ক্ষতি হয়। কিন্তু সামান্য কয়েক পয়সার লোভে কাতারপ্রবাসীদের কেউ কেউ নিয়মিতভাবে এই অবৈধ ও অননুমোদিত পন্থায় দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন।
যাঁরা এই মাধ্যম ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করে থাকেন, তাঁরা এই লেনদেনের সময় কোনো ধরনের কাগজ বা প্রমাণপত্র ব্যবহার করেন না। ফলে কখনো কোনো প্রতারণার ঘটনা ঘটলে তাঁরা এর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও জানাতে পারেন না। তাই সম্পূর্ণ নগদ লেনদেননির্ভর কাগজপত্রবিহীন এই মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদান কখনোই আইনসম্মত ও নিরাপদ নয়।
হুন্ডি ব্যবসায়ীরা এক্সচেঞ্জ কেন্দ্রগুলোর চেয়ে প্রতি রিয়ালের বিনিময়ে পাঁচ-দশ পয়সা বেশি রেট দিয়ে থাকেন। এই লোভে যাঁরা তাঁদের মাধ্যমে নিজের পরিবার ও স্বজনের কাছে অর্থ পাঠাচ্ছেন, তাঁরা কখনো ভাবছেন না যে সম্পূর্ণ অনিরাপদ একটি উপায়ে তাঁরা অর্থ লেনদেন করছেন। পাশাপাশি এর মাধ্যমে তাঁরা দেশের অর্থনীতিরও ক্ষতি করছেন।
কাতারে বেশির ভাগ হুন্ডি ব্যবসায়ী ভিসা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। যাঁরা অবৈধভাবে ভিসা কেনেন বা বিক্রি করেন, তাঁরা বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন করার সময় হুন্ডি ব্যবসায়ীদের দ্বারস্থ হন। সে সময় বাজারমূল্যের চেয়ে কম দিয়ে রিয়াল কেনেন বা বিক্রি করেন হুন্ডিওয়ালারা।
কাতারের প্রায় সব এলাকায় হুন্ডি ব্যবসায়ীরা ছড়িয়ে রয়েছেন। অনেক প্রবাসী নিয়মিত বিকাশ মাধ্যম ব্যবহার করেও দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এই দুটি মাধ্যম এখন পর্যন্ত কাতার ও বাংলাদেশের আইনে অবৈধ। ফলে যাঁরা এসব মাধ্যম ব্যবহার করছেন, কখনো তাঁরা প্রতারণার শিকার হলে প্রতিকার পাওয়ার কোনো সুযোগ পাবেন না। কারণ, এসব মাধ্যমে লেনদেন করার সময় কোনো ধরনের প্রমাণপত্র দেওয়া হয় না।
কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাস এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার সতর্কতামূলক প্রচারণার উদ্যোগ নিয়েছিল। সে সময় কিছুদিনের জন্য বিকাশ ও অন্য নামধারী ব্যবসায়ীরা নীরব থাকলেও অতিসম্প্রতি আবারও এ ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অর্থ উপার্জনের তাগিদে কাতারে এসে সামান্য কয়েক পয়সার লোভে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি করা যেমন কোনো সচেতন প্রবাসীর জন্য উচিত নয়, তেমনিভাবে অনিরাপদ ও অবৈধ কোনো উপায়ে লেনদেন করে ঝুঁকি নেওয়াও কাম্য নয়।
তাই দেশ ও নিজের ক্ষতি না করে কোনো অবৈধ ও অননুমোদিত উপায়ে পরিবারের কাছে অর্থ না পাঠিয়ে সচেতন হয়ে বৈধ উপায়ে অর্থ লেনদেন করাই সর্বোত্তম উপায়।

কালেরকথা/বিডি

মন্তব্য করুন

Logo

সম্পাদক: মাসুম বিল্লাহ কাওছারী

সিডরো মিডিয়া গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে রিনা দাশ কর্তৃক উত্তরা রেসিডেন্সিয়াল এলাকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত

 01701703442   ||   info@dailykalerkotha.com