মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৪, ২০২০

শিরোনাম

  ঢাকা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় দৈনিক কালের কথা পত্রিকার জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা,উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ০১৭০১৭০৩৪৪২ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

শ্রমিক-মজদুরদের প্রতি মহানবী (সা.)


শ্রমিক-মজদুরদের প্রতি মহানবী (সা.)

প্রকাশিতঃ শনিবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৭   পঠিতঃ 143829


সৎ কর্মী 
ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে 
যখন সন্ধ্যাবেলায় নিজ বাড়ি ফিরে আসে, তখন আল্লাহ পাক তার সব গোনাহখাতা মাফ করে দেন। নবীজি (সা.) এ সম্পর্কে বলেন, যে ব্যক্তি শ্রমজনিত কারণে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত অবস্থায় সন্ধ্যা যাপন করে, সে 
ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়েই সন্ধ্যা
অতিবাহিত করে

শ্রমের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে পরিশ্রম, মেহনত, খাটুনি ইত্যাদি। ইসলামের পরিভাষায় এ শ্রম বাহ্যত উৎপাদনকাজে ব্যবহৃত হোক কিংবা পারিশ্রমিক না থাকুক অথবা সে পারিশ্রমিক নগদ অর্থ হোক কিংবা অন্য কিছু হোক, এমনকি শ্রমের পার্থিব মূল্য না থাকলেও পারলৌকিক মূল্য থাকবে। অর্থনীতির পরিভাষায় পারিশ্রমিকের বিনিময়ে উৎপাদনকাজে নিয়োজিত মানুষের ও মানসিক সব ধরনের কর্মপ্রচেষ্টাকে শ্রম বলে।

শ্রমের গুরুত্ব ও মর্যাদা
উপার্জনের প্রতি প্রেরণা, উৎসাহ প্রদান করে আল্লাহ পাক সূরা জুমুআয় উল্লেখ করেছেন, ‘যখন নামাজ সমাপ্ত হয়ে যায়, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) তালাশ কর। আর আল্লাহ তায়ালাকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’
নবী করিম (সা.) পরিশ্রমী জীবনের কথা বলতে গিয়ে একদিন বলেন, ‘পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালা এমন কোনো নবী পাঠাননি, যিনি বকরি চরাননি।’ তখন সাহাবিরা বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনিও?’ নবী করিম (সা.) তখন বললেন, ‘হ্যাঁ, আমিও দু-কিরাত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মক্কাবাসীদের বকরি চরিয়েছি।’ 
হাদিস শরিফে এসেছে, ‘পৃথিবীতে যত নবী-রাসুল এসেছেন, সবাই শ্রমজীবী ছিলেন। আমাদের আদি পিতা হজরত আদম আলাইহিস সালাম ছিলেন কৃষক, হজরত দাউদ (আ.) ছিলেন কর্মকার, হজরত নুহ (আ.) ছিলেন কাঠমিস্ত্রি, হজরত ইদ্রিস (আ.) ছিলেন দর্জি, আর হজরত মুসা (আ.) জীবিকা নির্বাহ করতেন বকরি চরিয়ে। 
পৃথিবীতে মানবজাতির শ্রমকে মহানবী (সা.) অত্যন্ত চমৎকারভাবে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি বলেন, ‘শ্রমজীবীর উপার্জনই উৎকৃষ্টতমÑ যদি সে সৎ উপার্জনকারী হয়।’ (মুসনাদে আহমাদ)।
একবার নবীজি (সা.) এর কাছে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! কোন ধরনের উপার্জন শ্রেষ্ঠতর? তিনি উত্তর দিলেনÑ নিজের শ্রমলব্ধ উপার্জন।‘ (মুসনাদে আহমদ)
নবী করিম (সা.) আরও এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের শ্রমের ওপর জীবিকা নির্বাহ করে, তার চেয়ে উত্তম আহার আর কেউ করে না। জেনে রাখো, আল্লাহর নবী হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম নিজের শ্রমলব্ধ উপার্জনে জীবিকা চালাতেন।‘ (বোখারি)।

পরিবারের ভরণপোষণ সদকাহস্বরূপ
হজরত নবী করিম (সা.) এরশাদ করেন, ‘কোনো ব্যক্তি তার পরিবার-পরিজনের জন্য যা ব্যয় করে, তা তার জন্য সদকাহস্বরূপ গণ্য হয়।’
ইসলাম শ্রমকে এবং সৎ উপার্জনের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে, ভিক্ষাকে করেছে নিরুৎসাহিত। আবার উপার্জন না করে ঘরে শুয়ে বসে থাকতেও নিষেধ করা হয়েছে। ভিক্ষা করে খাওয়াকে নবীজি (সা.) প্রচ- ঘৃণা করতেন। একবার এক সুস্থ-সবল ব্যক্তি মহানবী (সা.) এর কাছে ভিক্ষা চেয়ে বসে। তখন তিনি তাকে বললেন, কেন ভিক্ষা করে বেড়াও? তোমার কি কিছুই নেই? লোকটি বলল, একটি পানি খাওয়ার লোটা এবং গায়ে দেয়ার জন্য একটা কম্বল আছে। নবী করিম (সা.) তাকে তা-ই নিয়ে আসতে বললেন। সেগুলো আনার পরে নিজেই নিলাম ডেকে দুই দিরহামের বিনিময়ে তা বিক্রি করে দিলেন। এর পর এক দিরহাম দিয়ে একটি কুড়াল কিনে এনে নিজে এর হাতল লাগিয়ে দিয়ে তাকে বললেনÑ যাও, জঙ্গলে গিয়ে কাঠ কেটে জীবিকা চালাও। ১৫ দিনের মধ্যে যেন তোমাকে না দেখি।
কিছুদিনের মধ্যেই দেখা গেল, ওই ব্যক্তির যথেষ্ট আর্থিক উন্নতি হয়েছে। এর পর একদিন সুন্দর কাপড় পরে কিছু হাদিয়াসহ তিনি দরবারে নববিতে হাজির হলেন। তখন নবীজি (সা.) তাকে বললেনÑ অপরের সামনে ভিক্ষার হাত বাড়িয়ে কেয়ামতের দিন লাঞ্ছিত হওয়ার চেয়ে এ-ই তো তোমার জন্য উত্তম। (আবু দাউদ, কিতাবুজ জাকাত : ১৩৯৮)।
ভিক্ষামুক্ত শ্রমনির্ভর ও স্বনির্ভর জাতি গঠনে মহানবী (সা.) এরশাদ করেন, ‘তোমাদের কেউ দড়ি নিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে যাবে এবং লাকড়ি জমা করে পিঠে বোঝা বয়ে এনে তা বিক্রি করবে, আর এভাবে আল্লাহ পাক তার প্রয়োজন মিটিয়ে দেবেন, তা তার জন্য মানুষের দোরে দোরে ভিক্ষা, করুণা ও লাঞ্ছনা পাওয়ার চেয়ে অনেক ভালো।’ (বোখারি : ১৩৮৬)। 
নবীজি (সা.) ভিক্ষালব্ধ খাদ্যকে অগ্নিদগ্ধ পাথর বলে অভিহিত করেছেন। (মুসলিম, রিয়াযুস সালেহিন)।
নবীজি (সা.) আরও এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ভিক্ষাকে জীবিকার পথ অবলম্বন করবে, সে আল্লাহর সামনে এ অবস্থায় হাজির হবে যে, তার চেহারায় একটুকরা গোস্তও অবশিষ্ট থাকবে না।’ (রিয়াযুস সালেহিন)।
নবী নবীজি (সা.) ভিক্ষাবৃত্তির নিকৃষ্টতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, ‘মনে রেখো, দাতার হাত প্রার্থীর হাত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।’
সৎ শ্রমিককে ক্ষমা করা হয়
একজন সৎ কর্মী ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে যখন সন্ধ্যাবেলায় নিজ বাড়ি ফিরে আসে, তখন আল্লাহ পাক তার সব গোনাহখাতা মাফ করে দেন। নবীজি (সা.) এ সম্পর্কে বলেন, যে ব্যক্তি শ্রমজনিত কারণে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত অবস্থায় সন্ধ্যা যাপন করে, সে ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়েই সন্ধ্যা অতিবাহিত করে। (তাবরানি, মাজমাউজ জাওয়াইদ)।

কালেরকথা/বিডি

মন্তব্য করুন

Logo

সম্পাদক: মাসুম বিল্লাহ কাওছারী

সিডরো মিডিয়া গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে রিনা দাশ কর্তৃক উত্তরা রেসিডেন্সিয়াল এলাকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত

 01701703442   ||   info@dailykalerkotha.com