মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২০

শিরোনাম

  ঢাকা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় দৈনিক কালের কথা পত্রিকার জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা,উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ০১৭০১৭০৩৪৪২ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

এ বর্বরতা থামবে কবে ?


এ বর্বরতা থামবে কবে ?

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২০   পঠিতঃ 11151


কদিন ধরে পত্র-পত্রিকা, গণমাধমের ও সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে চোখ দেয়া খুব বিরক্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব খানে আলাদা আলাদা ফোরাম। আলাদা আলাদা যুক্তি তর্ক উপস্থাপন ও খণ্ডন নিয়ে নারী পুরুষ দুই ভাগে বিভক্ত। গালাগালি, অশালীন কথাবার্তা যা সভ্য জাতি হিসেবে একেবারেই বেমানান।  তার মধ্যে ঢুকে পড়েছে আমাদের নোংরা রাজনীতি। মহামারীর উপর আবার নিজেদের সৃষ্ট মহামারী।   
আমরা ইদানিং লক্ষ্য করছি আমাদের সমাজে নারী-পুরুষ বৈষম্য যতটানা হচ্ছে প্রচার করা হচ্ছে তার বেশি প্রকট ভাবে। নারীর ক্ষমতায়ন, তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, সামাজিক পরিমন্ডল ও মর্যাদা এবং সমান অধিকার নিয়ে বর্তমান সরকার এবং বেসরকারি সংস্থাগুলো যৌথ ভাবে কাজ করছে  দৃশ্যত পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্র সবখানে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নারীর ক্ষমতায়নের প্রথম ও প্রধান শর্ত হিসেবে বিশ্লেষকরা নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং সমান অধিকারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।আমি ব্যাক্তিগত ভাবে এ কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি।  সরকার নারী নির্যাতন, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে আইন প্রণয়নসহ অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন করছে অতি দ্রুততার সাথে। অনেকে মনে করেন সমাজ, পরিবার, রাষ্ট্র সব ক্ষেত্রে সমানভাবে ক্ষমতায়িত হলেই  নারীর প্রতি সহিংসতা বহুলাংশে সমাজ থেকে কমে যাবে। আসলে এটা খুব যুক্তি যুক্ত কথা না, নারী এবং পুরুষের মধ্যে একের প্রতি অন্যের দায়িত্ববোধ  ভালোবাসা এবং বিশ্বাসের অটুটতা তৈরির ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে। বর্তমানে আমরা নারী পুরুষদেরকে আলাদা আলাদা প্লাটফর্মে দাড়করিয়ে ফেলতেছি যা আমাদের জন্য শুভকর নয়।  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি  বলেছেন, একটি সমাজ গড়ে তুলতে চাইলে সেখানে নারী-পুরুষ সবার অধিকার থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, রোববার জয়িতা ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নেসের বিশেষ সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, একটা সমাজে শুধু একটা দিকেই উন্নতি করলে সমাজটা পঙ্গু হয়ে যাবে, উন্নতি হবে না। একটা মেয়ে কাজের মধ্যদিয়ে যখন আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন করবে, তার নিজের মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস জেগে উঠবে'- প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যে প্রতীয়মান হয় নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য সরকার কতটা তৎপর ও সচেতনতার সাথে কাজ করছে। আমরা সরকারের বর্তমান  শিক্ষা-সংস্কৃতি, সামাজিক কর্মকান্ড, উৎপাদন, বাণিজ্য, রাজনীতিসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে লক্ষ্য  করলে দেখতেপাবো দিন দিন নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে । এরপরও বৈষম্য এবং নারীর প্রতি নির্যাতনের আধিক্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক। একটা সমাজে নারী যখন হীনমন্য হয়ে পরে , তা অবশ্যই লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায় সমাজ পরিবার এবং রাষ্টের জন্য। 
আমরা বিভিন্ন সময় গণ মাধ্যমে  ঢালাও ভাবে নারী নির্যাতন নিপীড়নের সংবাদ অতি উৎসাহিত হয়ে বাড়িয়ে বাড়িয়ে বা অতিরঞ্জিত করে  প্রকাশ করতে  লক্ষ্য করি যা পুরুষদের প্রতি নারীদের নেগেটিভ দৃষ্টিভঙ্গী তৈরী করে এবং আলাদা আলাদা প্লাটফর্মে নারী পুরুষদেরকে দাড়করিয়ে দেয়। কর্ম ক্ষেত্রে পরিবারে সমাজে ও রাষ্টে নারী পুরুষ আলাদা আলাদা চিন্তা করলে পরিবার সমাজ ও রাষ্টের উন্নয়ন কাঠামো ভেঙ্গে  পারবে যা কোনোভাবেই শুভকর ও কাম্য নয়। এজন্য গণমাধমকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। 

নারীর গুরুত্বকে কোনো ভাবেই সমাজে খাটো করে দেখা যাবেনা। একটি  সমৃদ্ধ সুস্থ  সুন্দর সমাজে  নারী -পুরুষ উভয়ের গুরুত্ব পূর্ণ অবধান থাকে বা  রয়েছে। চলতি বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবস সামনে রেখে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে নারীর অবস্থান চিহ্নিত করতে গিয়ে বলেছিল, বাংলাদেশের নারীর অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার নিচ থেকে তৃতীয়। সংস্থাটির প্রতিবেদনে হয়েছিল, নারী বৈষম্যের মাপকাঠিতে বাংলাদেশের সার্বিক স্কোর ৪৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা খুবই নিচের দিকে। আন্তর্জাতিক জরিপে উঠে আসা এ তথ্য নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য লজ্জাকর। যেখানে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এবং উচ্চপর্যায়েও নারী অধিষ্ঠিত, সে দেশে নারীর  অবস্থান এমনটা আমাদের ভাবার বিষয়।

বাংলাদেশে আমরা বর্তমানে নারীর ক্ষমতায়নকে সামাজিক উন্নয়নের সূচক হিসেবে  বিবেচনা করি। এ কথা অক্ষপটে স্বীকার করতেই হয় যে বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে-উন্নয়নে রেকর্ড পরিমাণ কাজ করে যাচ্ছে প্রথম থেকে। এই সরকার নারীবান্ধব সরকার তা আমরা খুব ভালো ভাবেই জানি।  সবার কাছে এটা  দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মক্ষেত্র সর্বত্রই নারীর অগ্রসর দৃশ্যমান পূর্বের যেকোনো সময়ের চাইতে । সরকারী বেসরকারি বিভিন্ন প্রকাশিত রিপোর্ট এ দেখা যায়, সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নারীর অংশগ্রহণ অপ্রতুল। প্রকৃত পক্ষে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার একটি জরুরি বিষয়। 
সর্বোপরি বলতে চাই, একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে নারী-পুরুষের সমতা খুব জরুরি বিষয়। একের প্রতি অন্যের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ তৈরী করতে সামাজিক উদ্বেগ গ্রহণ করতে হবে । পরিবারে সমাজে ও রাষ্টে উভয়ের দায়িত্ববোধ বাড়াতে হবে।  এব্যাপারে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে, একের প্রতি অন্যের সহনশীল আচরণ করতে হবে যা রাষ্টের নীতি নিধারণী জায়গা থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ ও নিশ্চিত করতে হবে। 

লেখক: সম্পাদক, দৈনিক কালের কথা ও  নির্বাহী পরিচালক,SEDRO

কালেরকথা/বিডি

মন্তব্য করুন

Logo

সম্পাদক: মাসুম বিল্লাহ কাওছারী

সিডরো মিডিয়া গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে রিনা দাশ কর্তৃক উত্তরা রেসিডেন্সিয়াল এলাকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত

 01701703442   ||   info@dailykalerkotha.com