মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২০

শিরোনাম

  ঢাকা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় দৈনিক কালের কথা পত্রিকার জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা,উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ০১৭০১৭০৩৪৪২ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

ভালোবাসার যৌথ খামার


ভালোবাসার যৌথ খামার

প্রকাশিতঃ বুধবার, জুলাই ৮, ২০২০   পঠিতঃ 40068


:: সাবিহা শবনম ::

নারী-পুরুষের প্রণয়ের প্রারম্ভে থাকে মিষ্টি সুবাস-সুবাতাস; বিচিত্র সব অভিমান। অভিমান ভালোবাসার তীব্রতম অনুভূতি। বোধকরি এটাই অধিকারের মধুময় প্রকাশ। আমি মুগ্ধ হই এই ভেবে যে কোনো এক অজানা আবেগে একটি মানুষ অন্য মানুষের প্রতি এতো গভীর মেঘ জমাতে পারে! কী অধিকার সে বোধ করে? অভিমানের মেঘ কি দারুণ শৈল্পিক! সবাই কী এই শিল্প ছুঁতে পারে?

আমি বরাবরই এই অভিমানকে অমূল্য ভাবি। আমার প্রতি কারো অভিমান জমেছে অর্থই হচ্ছে আমি কারো বিশেষ কেউ হতে পেরেছি। ভালোবাসার যৌথায়নে প্রথম প্রয়োজন অন্যের অনুভূতিকে মূল্যায়ন করা। দুটি অন্য পৃথিবীর মানুষ যখন এক পৃথিবী রচনা করতে চায় তখন অবশ্যই অপরিচিত, অনভ্যস্ত অনেককিছুই মনযুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই বৈপরীত্যে কেউ রোদ-বৃষ্টি বাঁচাতে ছাতা ব্যবহার করে অথবা উপেক্ষা করে। কিন্তু একসাথে ভিজবার স্বপ্ন কজন দেখে ! সম্পর্কের শুরুর আবেগ হয়তো ধরে রাখা সম্ভব না কিন্তু তার যত্ন নেওয়া সম্ভব। অযত্নে সব নষ্ট হয়। ভালোবাসার যৌথায়নে প্রয়োজন পারস্পরিক স্বতঃস্ফূর্ততা যেখানে উভয়ই স্বচ্ছ নিয়ামক।

একটি সম্পর্ককে টেনে নিয়ে বেড়ানোর পক্ষে আমি কখনোই না। আমি প্রতিদিনের মুগ্ধতার পক্ষে। আমি অভিমানের প্রতিটি কোণে রঙ্ধনু ছড়ানোর পক্ষে। আমি প্রতিটি বৈপরীত্যের নিজস্বতার প্রাচীরে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের পক্ষে। যেখানে শাসকষ্টের পরিবর্তে থাকবে মুক্ত বাতাস। যৌথায়ন অপরিহার্য।

সম্পর্কে ব্যক্তিরপছন্দ অবশ্যই অগ্রাধিকার পায় তবে সেটির সঙ্গীর অপছন্দকে উপেক্ষা করে নয়। পছন্দের ভিন্নতায় অপরপক্ষ যেন চুপসে না যায়। সূর্যের মতো উজ্জ্বল হতে হলে পৃথিবী সমান জায়গা করে নিতে হয়; না হলে ঝলসে যায় সব।

আমার দেখা বেশীরভাগ দম্পতি অভ্যস্ত দাম্পত্য বহন করে। সুখী মুখোশের অন্তরালে মুক্তি প্রার্থনা করে। একটু মুক্তচিন্তা যারা করে তারা সমাজকে অভিসম্পাত করে। আর বাকিরা ভাগ্য বলে মেনে নেয়। বের হয়ে আসতে পারে কয়জন! অবশ্যই আমি এই রঙহীন জীবনের বিপক্ষে।

আমি মনে করি সম্পর্কে প্রবেশের পর কেউ যদি হাতটি শক্ত করেই ধরতে চায়, তবে প্রয়োজন নিজেদেরকে সেই জীবনের জন্য উপোযোগী করে তোলা। আমাদের দেশে দাম্পত্য জীবন শুরুর আগে দীর্ঘদিনের কাউন্সিলিংকে আমি অপরিহার্য বলে মনে করি। যথেষ্ট পরিমান জেনেশুনে এই জীবনে প্রবেশের প্রয়োজন। রাঁধুনি যদি রান্নার প্রস্তুতিতেই গড়বড় করে ফেলে, বাস্তবিকভাবেই সে তার প্রত্যাশিত স্বাদ পাবে না। আনাড়ি মন নিয়ে দাম্পত্যে উল্টাপাল্টা আঁচড় ঝাপসা করে তোলে সম্পর্ক।

মেঘজমা বিকেল কীভাবে সোনারঙে আবেশিত হয় তা জানতে হয়। মনের কোণের কোন আবেগকে স্পর্শ করলে মায়াবী জোৎস্না ছড়ায় সেটি খুঁজে দেখা জরুরি। সব কিছুরই একটি নিয়ন্ত্রণ-সুইচ থাকে। সেই সুইচের খবর দুপক্ষেরই জানা জরুরী ।

আমি প্রতি মুহূর্ত উপোভোগে বিশ্বাসী। জমিয়ে রেখে ধুলোর পরতে ঢাকা পরলে অচেনা হয়ে যায় সব। কেউ কেউ ধুলো সরিয়ে ধুয়ে মুছে তুলতে জানে কিন্তু যত্নে রাখার মতো ঝকঝকে হয় না। সম্পর্কের সৌন্দর্যবৃদ্ধির জন্য সেচন, সার, আলো সব প্রয়োজন এবং সময়মত। আগাছা জমলে মুহুর্তেই উপড়ে ফেলতে হয়। এই সম্পর্কের যত্ন স্বভাবতই একপাক্ষিক হয় না। যৌথায়ন প্রয়োজন।

মানুষ মাত্রই তার নিজের মতো শিল্পী। আবেশিত হতে চায়। কিন্তু এই আবেশের অনুঘটক ভিন্ন। ভিন্ন পরিবেশে উপলব্ধি, চাহিদা ভিন্ন হয়। এই চাহিদার গুরুত্ব সীমাহীন। এটিই সম্পর্ককে প্রাচুর্যপূর্ণ করে। এটিই সম্পর্কের অক্সিজেন।

জিইয়ে রাখার চেয়ে মুক্ত স্রোতে ভেসে যাওয়া ভালো। ছোট্ট জীবন। প্রতিটি আবেগই মূল্যবান। সে যত ছোট হোক না কেন! মানুষ জানে না কীসে তার প্রকৃত আনন্দ।একটা ছোট ঘাসফড়িং এর পেছনে ছুটে চলা সমুদ্র দেখার চেয়ে অধিক আনন্দের হতে পারে। বৃষ্টি শেষে রঙ্ধনু দেখা চোখ অনেক অপেক্ষার কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা চোখের চেয়ে বেশি তৃপ্ত হতে পারে। তাই স্বল্প জীবনে প্রতি মুহূর্তের আনন্দ গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে যদি এই আনন্দ অন্যপক্ষকেন্দ্রিক হয় তবে অন্যপক্ষের সে বিষয়ে অবশ্যই সচেতন মূল্যায়ন জরুরি ।

সফল ভালোবাসার খামারে সত্যিই সম্পূর্ণ যৌথায়ন আবশ্যিক। তুচ্ছ অভিমানও যেন আগাছায় ছেয়ে না যায়। মুগ্ধ ভালোবাসায় জমা হোক স্নিগ্ধ শিশির। টুপটুপ শব্দেরা ছুঁয়ে দিক হৃদয়। অভিমান মেঘ বৃষ্টি নামাক প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসার ফসলের প্রশস্ত মাঠে। রঙ্ধনূ ছড়াক চিন্তার যৌথায়নে।

 

 

কালেরকথা/বিডি

মন্তব্য করুন

Logo

সম্পাদক: মাসুম বিল্লাহ কাওছারী

সিডরো মিডিয়া গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে রিনা দাশ কর্তৃক উত্তরা রেসিডেন্সিয়াল এলাকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত

 01701703442   ||   info@dailykalerkotha.com