শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২০

শিরোনাম

  ঢাকা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় দৈনিক কালের কথা পত্রিকার জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা,উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ০১৭০১৭০৩৪৪২ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

ক্যাপিটল হিল


ক্যাপিটল হিল

প্রকাশিতঃ সোমবার, জুন ১৫, ২০২০   পঠিতঃ 24570


::প্রফেসর ডঃ ইকবাল হোসাইন::

ড.ইকবাল হোসাইন বাংলাদেশের অন্যতম একজন ধর্মবিজ্ঞানী। থিওলজিতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেছেন বিশ্বের নামীদামী ইউনিভার্সিটি থেকে। লেখালেখির হাতে খড়ি প্রায় ছোটবেলা থেকেই। সাংবাদিকতার মহান পেশায় আত্মনিয়োগ করেন মাধ্যমিক পার হয়েই। বহুগ্রন্থ প্রণেতা প্রফেসর ড ইকবাল হোসাইন গবেষণা ধারার বাইরেও ধর্ম দর্শন,সমাজ রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির উপর বিশ্লেষণ ধর্মী পুস্তিকা রচনা করেন। কুষ্টিয়াস্থ ইসলামী উনিভার্সিটিতে অধ্যাপক হিসেবে কর্ম রত আছেন। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে রয়েছে তার মুক্ত বিচরণ। উচ্চতর গবেষণায় লন্ডন থাকাকালীন সময়ে লন্ডনকে তিনি যেভাবে দেখেছেন, সমাজধর্ম ও সংস্কৃতিকে যেভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন তার “লন্ডনের দিনগুলি”ধারাবাহিক লেখায় ফুটিয়ে তুলেছেন।

শার্লেটকে আমাদের কাছে যেভাবে রক্ষণশীল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, আমার কাছে তেমনটি মনে হয়নি। তবে হা এখানে ধর্ম চর্চার পরিমান অন্য স্টেটের তুলনায় বেশী। চার্চের সংখ্যাও প্রায় নয় শতাধিক। তবে এর পরিমাণ কত?এক গবেষণায় দেখা গেছে ৫৪% শার্লেটবাসী ধর্মের প্রেকটিজ করে। এই যদি ধর্মপ্রবণ এলাকার অবস্থা হয় তাহলে অন্য ষ্টেটের অবস্থা কি? তবে হাঁ প্রেকটিসে না থাকলেও বিশ্বাসের দিক থেকে ধর্ম বিশ্বাসীরাই যুক্তরাষ্ট্রে বেশী। শার্লেটে ধর্ম পরায়ন গ্রুপ গুলোর মধ্যে ব্যাপ্টিষ্ট,ক্যাথলিক, ইপিসসিপালিয়ান, লুথারান, ম্যাথডিষ্ট, পেন্টাকোস্টাল,প্রেসবাইটারিয়ান,এলডিএস, অন্যান্য খ্রিষ্টান, ইষ্টার্ণ, যিওশ এবং ইসলাম অন্যতম। ছোট শহরে কেবল খ্রিষ্টানদের এতো গ্রুপ তাহলে অন্যান্য স্থানে কি অবস্থা? তবে একটি জিনিস তাদের এ গ্রুপ বা দলের বিরোধিতা আলোচনা ও বুদ্ধিভিত্তিক পর্যায়েই থাকে। মারা-মারি বা একে অপরকে কাফের বা ধর্মদ্রোহী পর্যায় পর্যন্ত যায় না। যেটা আমাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে সংক্রমিত। ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যের চেতনায় এসব বিভেদ পরিহার অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু কে শুনে কার কথা! আরেকটি ব্যাপার তাঁরা ধর্ম প্রচার ও প্রসারের অন্যতম ওয়াসায়েল (পদ্ধতি) হিসেবে গ্রহণ করেছে আদর্শ ও কর্মদক্ষ মানুষ তৈরীর কাজকে। আমি সঠিক হিসেবে বলতে পারব না তবে এটা আমার কাছে মনে হয়েছে আমেরিকার দক্ষ জনশক্তির বিরাট অংশ এসব ক্যাথলিক ও ইহুদী স্কুল থেকে সাপ্লাই হয়। এখানেও আমরা ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছি। আমরা কেবল কিছু মাদরাসা তৈরী করে কুরআন হাদীদের জ্ঞান বিতরণকেই ইসলামের শিক্ষা বলে চালিয়ে দেই? কিন্তু আসলে কি তাই? আমি এ দ্বারা মাদারাসা শিক্ষার গুরুত্বকে অস্বীকার করছি না তবে এসব মাদরাসা থেকে জাতির প্রয়োজনীয় সকল সেক্টরের জনশক্তি সাপ্লাই হচ্ছে কি? যদি না হয় তাহলে তা খন্ডিত শিক্ষা।

 

কখনোই পরিপূর্ণ শিক্ষা বলা যাবে না। আমরা যদি মধ্যযুগের মাদরাসাগুলোর ইতিহাস দেখি কি ছিল না তাতে? অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার নামে প্র চলিত ওহীর ইলম ব্যতীত স্কুল শিক্ষাও খন্ডিত। সুতরাং আজ যারা পৃথিবীর নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদের পদাংক অনুসরণ নয় বরং ইসলামের ধারা অনুসরণ করলে বর্তমানে যাকে আধুনিক শিক্ষা বলা হয় তাও যে ইসলামী শিক্ষার গ-ির মধ্যে তা সহজেই অনুমেয়। শার্লেট এখন পর্যন্ত দেখা শহরগুলোর মধ্যে খুবই নিরিবিলি গাম্ভীর্যপূর্ণ শহর মনে হয়েছে। ধর্মীয় দিক থেকে কতটা আধ্যাত্মিক সে ব্যাপারে আমার প্রশ্ন থাকলেও পরিবেশগতভাবে যে আধ্যাত্মিকতা আছে তা অবশ্যই বলা যায়। শার্লেটকে ক্যাপিটেলিজমের একটি মডেল শহর মনে হয়েছে। তবে সকল কিছুকে ছাপিয়ে আমার কাছে একটি প্রশ্ন বার বার উকি দিচ্ছে? আসলে এতে অর্থ সম্পদ আর চাকচিক্যের সর্বশেষ গন্তব্য কোথায় আর আমরা এ পৃথিবীকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছি? বিক্ষিপ্ত এসব ভাবনার মধ্যেই ক্লিবলেন্ডের বোডিং-এর ডাক এল। আমরা ক্রাফটে উঠার জন্যে সামনে এগিয়ে যাই।

 

 

কালেরকথা/বিডি

মন্তব্য করুন

Logo

সম্পাদক: মাসুম বিল্লাহ কাওছারী

সিডরো মিডিয়া গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে রিনা দাশ কর্তৃক উত্তরা রেসিডেন্সিয়াল এলাকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত

 01701703442   ||   info@dailykalerkotha.com