মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২০

শিরোনাম

  ঢাকা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় দৈনিক কালের কথা পত্রিকার জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা,উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ০১৭০১৭০৩৪৪২ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

গরু চোরের দায় মন্ত্রীরনা


গরু চোরের দায় মন্ত্রীরনা

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২০   পঠিতঃ 126441


:: মামুন মাহফুজ ::

সীমান্তে যারা গরু চুরি করতে যায় তাদের হত্যা করা হলে তার দায় মন্ত্রীর নয়।...খুবই সুন্দর কথা। মন্ত্রী মহোদয়কে অনুরোধ করবো যদি কখনও বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়, সেদিন তার এই বক্তব্য দিয়ে যেন একটি পোস্টার বানানো হয়। দেখি তিনি কয়টা ভোট পান।....

তাই বলে ভাববেন না আমি গরুচোরের পক্ষে। অনেকে বলবেন গরু চুরি কি আর সাধে করে? অভাবে করে।...

বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রের অভাব নেই। হ্যাঁ অভাব আছে শিক্ষিতদের কর্মক্ষেত্রের বড়ই অভাব। কিন্তু অশিক্ষিত কিংবা গরুচুরির মতো সম্মানহীন কাজ যারা করতে পারে তারা চাইলে অনেক কাজই জুটিয়ে নিতে পারে।

কিছু অঞ্চলের মানুষ স্বভাবগতভাবেই অলস এবং লোভী হয়। হয়তো সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষগুলো এমনই। নতুবা তারা অন্য কোনও কাজের সন্ধান না করে এতো হত্যাকাণ্ডের পরও কেন সীমান্তে গরু চুরি করতে যায়?

এর চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো এই চুরিতে কি শুধু বাংলাদেশীরা জড়িত? নাকি এতে ভারতের চোরেরাও জড়িত? গরু চুরি করতে বাংলাদেশীরা যদি ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে তাহলেতো চোরদেরকে অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতের ভিতরেই গ্রেফতার করার কথা। তা না করে সব গরু চোর কেন সীমান্তে এসে গুলি খেয়ে মরে?

রহস্যটা কেউ জানেন? রহস্যটা হচ্ছে বাটপারেরা সীমান্তে গরু পৌঁছে দেয়, আর বিএসএফ বাটপারদের কিছু বলে না নিজের দেশের বলে। গুলি করে হত্যা করে বাংলাদেশের গরু চোরদের।...

যা হোক গরুচোর বলে না হয় মেনে নিলাম, কিন্তু সবাই যে গরু চোর এটা প্রমাণ হলো কোন আদালতে? সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষতো নিজের গরু চরাতেও সীমান্তে যায়।

আমার কথা হলো যদি বাংলাদেশের গরুচোরদের গুলি করে হত্যা করা হয় তাহলে ভারতের গরুচোরদের কেন রক্ষা করা হয়? বিএসএফ বিজিবি দুটো বাহিনীর কারও গুলিতেই ভারতীয় গরুচোর মরার খবরতো পাই না?

তবে আমি নৈতিকভাবে মনে করি সত্যিই যদি কেউ গরু চুরি করতে গিয়ে মরে আমার আফসোস নেই। কিন্তু আফসোস হচ্ছে ফেলানীর মতো নিরীহদের জন্য। আমি মানতে পারি না ফেলানী গরু চুরি করতে গিয়েছিল।....

আর সার্ভভৌমত্বের অর্থ হচ্ছে আমার দেশের চোরের শাস্তি আমিই কেবল দিতে পারি, অন্যদেশ নয়। ভারতের দুচারটা গরুচোরকে মন্ত্রী সাহেব মেরে দেখান যে তিনি গরুচোরের দায়িত্ব নিতে চান না। ভারতের চোরদের রক্ষার দায়িত্ব নিতে পারলে বাংলাদেশের চোরদের দায়িত্ব কেন নয়?...

যারা সীমান্তে গরু চুরি করতে যান, তারা দয়াকরে আর সীমান্তে যাবেন না চুরি করতে। উগান্ডার যে কোনও মন্ত্রীর বাসায় সংঘবদ্ধ হয়ে চুরি করে সফল হলে কিন্তু আপনারা সবাই মিলে সারাজীবন রাজার হালে থাকতে পারবেন। সামান্য গরু চুরি করতে গিয়ে কেন জীবনটা হারাবেন?

গরুচোরদের বলবো সীমান্তে নয়, যারা চুরি করে অঢেল সম্পদ বানিয়েছেন তাদের বাড়িতে চুরি করুন। তারপর আমরা জনগণ বলে দেব চোরের বাড়িতে চুরি হলে আমরা দায়িত্ব নিতে পারব না।...

আছে সেই সাহস? না থাকলে যান সীমান্তে গিয়ে প্রাণ হারান। বড় চোর আপনাদের মতো ছোট চোরদের গালি দিয়ে মনের ঝাল মিটাক।

 

লেখক: গীতিকার, সুরকার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

 

 

কালেরকথা/বিডি

মন্তব্য করুন

Logo

সম্পাদক: মাসুম বিল্লাহ কাওছারী

সিডরো মিডিয়া গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে রিনা দাশ কর্তৃক উত্তরা রেসিডেন্সিয়াল এলাকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত

 01701703442   ||   info@dailykalerkotha.com