মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২০

শিরোনাম

  ঢাকা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় দৈনিক কালের কথা পত্রিকার জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা,উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ০১৭০১৭০৩৪৪২ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

নারীদের সন্দেহবাতিক রোগে ভাঙছে সংসার!


নারীদের সন্দেহবাতিক রোগে ভাঙছে সংসার!

প্রকাশিতঃ রবিবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৯   পঠিতঃ 126063



:: মামুন মাহফুজ ::

মাসে তালাকের আবেদন পড়েছে ৪৫৫৭। রাজধানীতে প্রতি ৫০ মিনিটে ভাঙছে একটি সংসার এমন শিরোনাম দেখে আঁতকে ওঠাই স্বাভাবিক। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন কেন প্রতিনিয়ত সংসার ভাঙছে? কেন বাড়ছে গৃহ নির্যাতন, হত্যা, আত্মহত্যা?

এর অনেকগুলো কারণ আছে। তবে আজ আমি বলবো সংসার ভাঙার পেছনে সবচে বেশি দায়ী সন্দেহবাতিক রোগ এবং ইগো প্রবলেম। সাধারণত নারীদের মধ্যে সন্দেহবাতিক রোগটি বেশি। তবে পুরুষও সন্দেহ রোগে ভোগেন। নারীরা কখনই যেন তার পুরুষ সঙ্গীকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন না। আর তার সেই অবিশ্বাসের কারণে ধীরে ধীরে সংসারের মজবুত খুঁটিগুলোতে ঘুণ ধরতে শুরু করে।

নারীরা চান তাদের সঙ্গীকে সবসময় যে কোনও নারীর থেকে দূরে রাখতে। তাদের বদ্ধমূল ধারনা হলো পুরুষ মানেই নারীর প্রতি আকৃষ্ট। এর যথেষ্ট কারণও আছে। কারণ নারী আজ যে কোনও পুরষের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। যার ফলে নারী বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। এমন একটা সময় আসবে যখন নারী তার স্বামীকে যেমন বিশ্বাস করে না, তেমনি পুরুষ বলে তার পিতাকেও অবিশ্বাস করতে শুরু করবে। ইদানীং সংবাদ মাধ্যমে পিতার দ্বারা কন্যার যৌন নির্যাতনের খবর খুব চাউর হচ্ছে। এসব খবর যারা বেশি বেশি শেয়ার করছে, তারা মূলত নিজেদের পেইজ বা চ্যানেলের ভিউয়ার্স বাড়াতে এসব সংবাদ খুঁজে খুঁজে বের করেন এবং তা অত্যন্ত রসালো ভাষায় তুলে ধরেন। তাদের এমন কুরূচিপূর্ণ কাজের মাধ্যমে আজ নারী তার পিতা নামক পুরুষটির প্রতিও বিশ্বাস হারাতে বসেছে। যদি এমনটা ঘটেই তবে সমাজে নারীকে রক্ষা করবে কে?

সন্দেহবাতিক নারী প্রতি মুহূর্তে তার পুরুষসঙ্গীর কোনও না কোনও চারিত্রিক ত্রুটি খুঁজে পেতে চায়। ধরা যাক কোনওদিন তার স্বামী বাসায় ফিরলো দেরি করে? নারী তাকে প্রশ্ন করবে
-আজ এতো দেরি হলো কেন?
-রাস্তায় জ্যাম ছিল...
-রাস্তায় কি শুধু আজই জ্যাম ছিল? প্রতিদিনইতো জ্যাম থাকে। আজ এতো দেরি হলো কেন?

এই প্রশ্নটি স্বামী বেচারাকে কতোটা বিব্রত করে আর অফিস শেষে পথের যাবতীয় অবস্ট্যাকল মোকাবিলা করে বাসায় ফেরা লোকটিকে কতোটা আঘাত করে তা কি নারীর বোঝার ক্ষমতা আছে?

অথবা যদি কোনওদিন তাড়াতাড়ি ফেরে, তাহলেও কিন্তু প্রশ্ন আছে।

-আজ এতো তাড়াতাড়ি আসলে যে? অফিসে যাওনি? নাকি অফিস থেকে কারও সাথে ঘুরতে গিয়েছিলে?
এই প্রশ্নটি সে প্রকাশ করুক বা না করুক তার মনে ঘুরপাক খাবে। এর উত্তর খুঁজতে খুঁজতে সে তার সঙ্গীর জীবন অতীষ্ট করে তুলবে।

যদি কোনওদিন গোমরামুখে বাসায় ফেরে, তাতেও নারীর সন্দেহ হবে, ‘কী ব্যাপার? আজ মুড নষ্ট কেন? কারও সাথে কিছু হলো নাকি? কোনও নারী সহকর্মীর সাথে ব্রেকআপ বা ঝগড়াটগড়া এমন কিছু ঘটেছে হয়তো?’

যদি হাসিমুখে ফেরে, মুড খুব ভালো। তখনও নারী সন্দেহ করে ‘ব্যাপারকি? আজ এতো খোশমেজাজে কেন? কারও কাছ থেকে কোনও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে নাকি? ডেটিং এ গিয়ে অন্য কোনও নারীর ভালোবাসা পেয়ে আজ খুব ফুরফুরে মেজাজে আছে বুঝি?’

পুরুষ যখন বিছানায় চুপচাপ শুয়ে ভাবে কাল বাচ্চাটাকে স্কুলে ভর্তি করতে হবে। এতোগুলো টাকায় কোথায় পাবো? তখন নারী ভাবে, ‘তার পুরুষ সঙ্গীটা অন্য কোনও নারীর কথা ভাবছে নাতো? তা না হলে চুপচাপ কী ভাবছে?’

নারীদের এরকম নেতিবাচক ভাবনা, সন্দেহবাতিক চরিত্র সংসারটাকে ধীরে ধীরে পুলিশের ইন্টারোগেশন সেল এ পরিণত করে। আর সেই সেলে পুরুষ সঙ্গীটা হাঁপিয়ে উঠে একসময় শ্বাস ফেলার জন্য নতুন পরিবেশ খোঁজে। আর সেই খোঁজার সময়ে যদি কোনও নতুন নারী তাকে এতটুকু সুখের সন্ধান দেয়, এতটুকু সহমর্মিতা দেখায় তখন পুরুষ অতিমাত্রায় লোভী হয়ে ওঠে। সে নতুন জীবন পেতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। আর তখন নারী তার এতো বছরের অহেতুক সন্দেহকে ‘সঠিক’ বলে ধরে নেয়। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে নারীর সন্দেহবাতিকতা এবং আপন বাসভূমিকে ইন্টারোগেশন সেল বানানোর ফলেই কিন্তু পুরুষ নতুন পরিবেশের খোঁজে ছুটতে শুরু করে।

এভাবে একটি সংসার ভাঙনের মুখে এসে দাঁড়ায়। তখন সন্তানরা অসহায় হয়ে পড়ে। সাধারণত পুরুষরা সন্তানদের কথা ভেবে নারী সঙ্গীর সবরকম মানসিক নির্যাতনকে মুখবুজে অথবা কিছু প্রতিবাদ করেও মেনে নেয়ার চেষ্টা করে।

আবার কেউ কেউ ইগো কনফ্লিক্টের শিকার হন। তারা ভাবেন, ‘নাহ এই মানুষের সঙ্গে আর এক মুহূর্তও নয়। মেয়েটাকে একটা শিক্ষা দিতে হবে’। এই শিক্ষা দিতে গিয়ে তারা সংসারটাকে ভাঙনের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসেন।

এসময় যদি কোনও সলিসিটর বা কাউন্সিলর বা মুরুব্বি উভয়কে বুঝিয়ে সংসার টেকাতে পারেন তাহলে সংসারটা টিকে যায়, সন্তানরাও বেঁচে যায়। কিন্তু এখন এমন এক সমাজে আমরা বাস করছি, সেখানে এই মুরুব্বি বা সলিসিটর বা কাউন্সেলিং করার লোকের বড় অভাব।

 

সাধারণত এসব ব্যাপারে মেয়ের পরিবারের লোকেরা অতিমাত্রায় ইগো প্রদর্শনের চেষ্টা করেন। আর ছেলের পরিবার ভাবে ‘গেলে, যাক’। মেয়ের পরিবার ভাবে ‘ভাতের অভাবে মেয়ে বিয়ে দেই নাই, একটা মেয়েকে আমি খাওয়াতে পারবো। তুই আজই বাড়ি চলে আয়। আমরাকি মরে গেছি? তুই কেন ওই জানোয়ারটার সংসার করবি?’

এই উস্কানি সম্ভবত শতকরা নব্বইভাগ নারীর পরিবারই দিয়ে থাকে।

এসব উস্কানীতে কোনও কোনও নারী সত্যি সত্যি বাপের বাড়িতে আশ্রয় নেয়, আর কোনও কোনও নারী ধৈর্য ধরে। পুরুষ মানুষটির ভালো দিকগুলো নিয়ে ভাবতে ভাবতে সে আবার তার প্রেমে পড়ে যায়। এমন নারীর সংখ্যা কম হলেও আছে। আর আছে বলেই অনেক সংসার টিকে আছে।

প্রতিটি সংসারই টিকে থাকে দুজনের সেক্রিফাইসের কারণে। একজন বেশি সেক্রিফাইস করে, আরেকজন কম সেক্রিফাইস করে। কিন্তু সেক্রিফাইস ছাড়া, কম্প্রোমাইজ ছাড়া সংসার টেকে না।

সংসার ভাঙনরোধে তাই আমার পরামর্শ হলো- সন্দেবাতিক নারীদের নিপীড়ন বন্ধ করতে একটি আইন করতে হবে যে, সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কোনও আচরণ প্রকাশ করা যাবে না। যদি কারও ক্ষেত্রে সন্দেহের কোনও সুস্পষ্ট ভিত্তি থাকে তাহলে তা আদালতের নজরে আনতে হবে। যদি সন্দেহ মিথ্যা হয় তাহলে নারীকে মুচলেকা দিতে হবে। আর যদি সন্দেহ সত্য প্রমাণ হয় তাহলে পুরুষকে মুচলেকা দিতে হবে।

একইভাবে যদি কোনও পুরুষ তার নারী সঙ্গীকে অবিশ্বাস করে বা সন্দেহ করে তবে তাকে মজবুত ভিত্তি আবিষ্কার করতে হবে। এবং তাকেও আদালতের স্মরণাপন্ন হতে হবে। মেয়েটি যদি অপরাধী হয় তবে তার শাস্তিবিধান করতে হবে। এই শাস্তি এমন হতে হবে যাতে মেয়েটি তার সন্তান স্বামী থেকে আলাদা হয়ে যেতে না হয়, বা যদি আলাদা হওয়ার মতোই অপরাধ হয়, সেক্ষেত্রে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবং সংসারের আমানত রক্ষা করতে না পারার অপরাধে মেয়েটির পরিবারকে বড় ধরনের মাশুল গুণতে হবে। কেননা এসব ক্ষেত্রে অনেকসময় মেয়ের পরিবারের সায় থাকে প্রচ্ছন্নভাবে।

যেমন মেয়েটি বাপের বাড়িতে আসার পর, তার মা তাকে বললো, ‘জানিস তোর মিলন ভাই আমেরিকা থেকে ফোন দিছিল...’
-তাই নাকি? কী বললো মা? মিলন ভাই? আমাদের জন্য কিছু পাঠাবে?
- কী আর পাঠাবে? কতো কিছুইতো পাঠাতে চায়। ওরতো কতো স্বপ্ন ছিল। তুইতো পাত্তা দিলি না। এখন যাকে নিয়ে আছিস তাকে নিয়েই সুখে থাক।

মা মুখে এটা বললেও মেয়েটার বুকে কিন্তু ঝড় তুলে দিয়েছে। কারণ মা বুঝিয়ে দিয়েছে যে সে আমেরিকা প্রবাসী ছেলেকে বিয়ে না করে দেশে পড়ে থাকা ছাপোষা একটা ছেলেকে বিয়ে করে তার স্বপ্ন আহ্লাদ সব খুইয়েছে।

এমন মা যার আছে সেই মেয়ে কোনওদিন শান্তিতে তার স্বামীর ঘর করতে পারবে না। বলাইবাহুল্য! মেয়েদের বিয়ের আগে অনেকেই বিয়ের আগ্রহ দেখায়, প্রস্তাব পাঠায়। বিয়ের পর পরিবার যদি সেসব নিয়ে হার-জিতের খতিয়ান খুঁজতে শুরু করে, তাহলে মেয়েতো নয়ই তারা নিজেরাও সুখি হতে পারবে না। কারণ যে মাছটি বড়শি থেকে পালায় সে মাছটাকে সবসময় বড় মনে হয়।

বিয়ের পর মেয়ের (পরিবারের) এমন ভাবনা সমূলে ধংস হওয়া জরুরি। যে ‘অমুক আমাকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল। সে তোমার চেয়ে যোগ্য ছিল। আমি ভুল করেছি। আমি যদি তখন এই ভুলটা না করতাম, তাহলে আজ তোমার সংসারে এসে এতো কষ্ট আমাকে সহ্য করতে হতো না।’ মেয়েদের এমন ভাবনা এবং স্বগোতোক্তি সংসারকে তীব্র দহনে জ্বালিয়ে ছাই করে।

এ ক্ষেত্রে পুরুষের ভাবনাও একইরকম হতে পারে। তবে পুরুষের ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম এই কারণে যে বয়সের কারণে কোনও মেয়েই আর সেরা সুন্দরী থাকে না। অতএব পূর্বের সেরা সুন্দরীকে ৫-১০ বছর পর দেখে সে আর আফসোসে ভোগে না, বরং ভাবে, ‘এইটারেতো বিয়ে না কইরা ভালোই করছি...কী অবস্থা হইছে বাপরে!’

কিন্তু পুরুষ দিন দিন আরও বেশি মূল্যবান হয়ে ওঠে। কারণ তার আয় বাড়ে, জৌলুস বাড়ে। গাড়ি বাড়ি হয়। সমাজে সম্মান বাড়ে। সেসব দেখে পূর্বের নারী বন্ধুরা ভাবে আহারে এই ছেলেটাকে যদি তখন উপেক্ষা না করতাম! তাহলে আজ তার গাড়িতে তারই পাশে আমারই থাকা হতো!....এই ভাবনা যখন কোনও নারীর মনের মধ্যে ঢুকে পড়ে তখন তাকে অপারেশন করেও আর সারিয়ে তোলা যাবে না। সে সবসময় এসব ভাববে আর দীর্ঘশ্বাস ফেলবে। আর সেই দীর্ঘশ্বাসের আগুন সংসারটাকে জ্বালিয়ে ছারখার করবে।

এর সমাধান হচ্ছে যারা ধার্মিক তারা দৃঢ়ভাবে ভাবতে পারে যে বিয়ে মহান আল্লাহর হুকুমে হয়, যার সাথে লেখা ছিল, তার সাথেই হয়েছে। এখানে কারও কোনও ভুল নেই।

সংসার রক্ষায় নারী পুরুষ উভয়কেই আরও যত্নবান হতে হবে। কারণ এতো শুধু নারী বা পুরুষের একার ক্ষতি নয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারী-পুরুষ উভয়েই। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সন্তানেরা।

আমি আমার বন্ধু মহলে দেখেছি, যে পুরুষ তার স্ত্রীর হাজারটা ভুল দেখে তাকে ডিভোর্স দিয়েছে, সেই পুরুষ ৫বছর পরও অন্য কোনও নারীকে বিয়ে না করে পূর্বের সঙ্গীকে ফিরে পেতে আকুল হয়ে থাকে। এমন নারীর কথা জানি যে কি না ডিভোর্সের পর আগের মানুষটার জন্য কাঁদতে কাঁদতে রাতের পর রাত কাটায়।

তাহলে কেন তাদের ব্রেকআপ হলো?
নিশ্চই কারও উস্কানী?
জেদ?
ইগো?
সন্দেহবাতিক রোগ?

আপনারা মিলিয়ে নিতে পারেন, আপনাদের জানা জগতের সাথে। হয়তো আমি ভুল। অথবা আমি কিছুটা ভুল কিছুটা সঠিক। অথবা আমি সম্পূর্ণ সঠিক। কিন্তু আমার অনুরোধ থাকবে সংসার ভাঙার আগে বারবার ভাবুন এটা কি ইগো প্রবলেম? প্রতিশোধ স্পৃহা? জেদ? অহেতুক সন্দেহ? নাকি সত্যিকারের কোনও কারণ?
যদি তেমন কোনও জোরালো না থাকে তাহলে নিজেদের দোষত্রুটিগুলো নিজেরাই খুঁজে বের করুন। কারণ আজকাল নিরপেক্ষ মুরুব্বি পাওয়া কঠিন। যে আপনাদের দুজনকে ভালোভাবে বুঝতে সক্ষম হবে এবং দুজনের মধ্যে সুন্দর সমাধান করে দেবে। অতএব নিজের অভিভাবক আজ নিজেই হতে হবে। সংসার রক্ষায় আরও বেশি ধৈর্যশীল হতে হবে। তাহলেই রক্ষা পাবেন আপনি আপনার সঙ্গী, আপনার সন্তান।

  লেখক: গীতিকার, সুরকার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

কালেরকথা/বিডি

মন্তব্য করুন

Logo

সম্পাদক: মাসুম বিল্লাহ কাওছারী

সিডরো মিডিয়া গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে রিনা দাশ কর্তৃক উত্তরা রেসিডেন্সিয়াল এলাকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত

 01701703442   ||   info@dailykalerkotha.com