শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২০

শিরোনাম

  ঢাকা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় দৈনিক কালের কথা পত্রিকার জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা,উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ০১৭০১৭০৩৪৪২ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

কা‘বা অবরোধের চল্লিশতম বার্ষিকী:ডঃ ইকবাল হোসাইন


কা‘বা অবরোধের চল্লিশতম বার্ষিকী:ডঃ ইকবাল হোসাইন

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১, ২০১৯   পঠিতঃ 83538


:: ডঃইকবাল হোসাইন ::

আজ মুসলমানদের জন্যে এক হৃদয় বিদারক দিন। ১৯৭৯ সালের ২০ নভেম্বর এ দিন চিন্তা-চেতনায় কিছু ভ্রান্ত মুসলমান জুহাইমান আল-ওতাইবীর নেতৃত্বে কাবা শরীফ দখলে নিয়ে মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-কাহতানীকে ‘ইমাম মাহদী’ ঘোষণা করে। বিভিন্ন সোর্স থেকে ঐতিহাসিক রেকর্ডে জানা যায়, জুহাইমান আল-ওতাইবী ছিলে কট্রর সালাফী। প্রচন্ডভাবে পাশ্চত্য বিরোধী লোকটি সৌদ পরিবারকে ইহুদী-নাসারাদের দালাল মনে করতো।

সৌদি আরবে বিভিন্ন অনাচারের জন্যে এ সৌদ পরিবারকে সে অভিযুক্ত করে। সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে অত্যন্ত সন্তর্পনে সফর করে কয়েকশ অনুসারী তৈরী করে। তার ভাষায় সৌদ পরিবারের অত্যাচারের মাত্রায় ইমাম মাহদীর আগমন অনিবার্য হয়ে উঠে। পেয়েও যান এমন একজন যার বাবার নাম হুবহু আবদুল্লাহ। আর তার নিক নাম মুহাম্মদ । মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-কাহতানী ।এবার যায় কোথায়? উগ্র দলটি সৌদ পরিবারের অনাচারের বিরুদ্ধে মাহদী ঘোষণা দেওয়ার জন্যে হিজরী ১৪০০ হিজরীর প্রথম দিনটিকে বেছে নেয়।

গ্রুপটি ইতিপূর্বে গোপনে অনেক অস্র কাবা ও হেরেম এলাকায় মজুদ করে। ১৪০০ হিজরীর প্রথম দিন মোতাবেক ২০ নভেম্বর ১৯৭৯ ফজরের নামাযের পর ইমামের কাছ থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে তারা ‘ইমাম মাহদীর’আগমন ঘোষনার সাথে সাথে সৌদ পরিবারকে প্রত্যাখ্যান করে এবং এখন থেকে সকলকে ইমাম মাহদীর নিকট বাইয়াত গ্রহনের আহবান জানায়। মুহুর্তেই সৌদি আরবসহ সারা বিশ্বে এ সংবাদ পৌঁছে যায় এবং তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। সৌদি সরকার তাৎক্ষনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। মসজিদে যেসব সব সন্ত্রাসী ঢুকেছে তাদেরকে বেরিয়ে আসার আহবান জানালে তারা পাল্টা আক্রমনের হুমকী দেয়। অবশেষে গ্রান্ড মুফতী আবদুল্লাহ বিন বাজের ফতোয়া নিয়ে পাকিস্তানের কমান্ডো বাহিনীর সহায়তায় মসজিদের অভ্যন্তরে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়। যারা আন্ডার গ্রাউন্ডে ছিল তাদেরকে পানিতে ডুবিয়ে পানি ইলেকট্রিফাইড করে হত্যা করা হয়।

এমনিভাবে উপরের দিকে যারা ছিল তাদেকে হত্যা এবং অনেকে আত্মসমর্পনে বাধ্য করা হয়। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার হিসেব অনুযায়ী এ অভিযানে দসরকারের দু‘শো নিরাপত্তা বাহিনীসহ প্রায় ৬০০ লোকের প্রাণহানী হয়। রক্তক্ষয়ী এ অভিযান পাঁচদিন চলে। অবশ্য তিনদিন পরেই সরকার বায়তুল্লাহ ও হারাম শরীফের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এ ঘটনায় স্বঘোষিত মাহদী মারা যায়। অনেকে আত্মসমর্পন করে। আত্মসমর্থনকারী অনেকে পরে দন্ডিত হয়। এ ঘটনা স্মরণে মুসলিম হৃদয়ে এখনো রক্তক্ষরণ হয়। বাংলাদেশে এর প্রতিক্রিয়া হয়েছিল ব্যাপক। হে আল্লাহ তোমার ঘরের মর্যদা রক্ষায় আমরা অক্ষম। তুমি এ ঘরের মর্যাদা রক্ষায় আমাদের শক্তি দাও।

লেখকঃ প্রফেসর, ইসলামী ইউনিভার্সিটি, কুষ্টিয়া

কালেরকথা/বিডি

মন্তব্য করুন

Logo

সম্পাদক: মাসুম বিল্লাহ কাওছারী

সিডরো মিডিয়া গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে রিনা দাশ কর্তৃক উত্তরা রেসিডেন্সিয়াল এলাকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত

 01701703442   ||   info@dailykalerkotha.com