সোমবার, নভেম্বর ২৩, ২০২০

শিরোনাম

  ঢাকা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় দৈনিক কালের কথা পত্রিকার জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা,উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ০১৭০১৭০৩৪৪২ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

যোনী নিরাপত্তা চাই


যোনী নিরাপত্তা চাই

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, নভেম্বর ৫, ২০১৯   পঠিতঃ 138726


:: খায়রুননেসা রিমি ::
সজলের সাথে কথা শেষ করে লোরা বারান্দায় এসে দাঁড়ালো।হঠাৎ খেয়াল করলো রাস্তার ওপাশে কিসের যেনো জটলা।একটা বাচ্চা মেয়েকে ঘিরে আছে বেশ কিছু লোক।"তাড়াতাড়ি একটা ভ্যানের ব্যবস্থা কর,ছেমড়িটা মইরা যাইবো,আর তারে বাঁচানো যাইবোনা।তিন বছরের বাচ্চার লগে এমুন কাম কেউ করে?হারামজাদাটা চকলেটের লোভ দেখাইয়া আখ ক্ষেতের ভিতরে নিয়া এই কামটা করলো।তোমরা আগে ভ্যানের ব্যবস্থা করে ওরে হাসপাতালে পাঠাও।আগে ওরে বাঁচানোর চেষ্টা করো।তারপর আমি ঐ হারামজাদার ব্যবস্থা করতাছি।"

স্থানীয় একজন মুরুব্বী কথা গুলি বললেন।শিশুটির বাবা কাঁদতে কাঁদতে একটা ভ্যান নিয়ে এলো।শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় অচেতন ভাবে পড়ে রইলো মায়ের বুকে।শিশুটির মা,বাবা আত্মীয়স্বজনরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলো।লোরা বারান্দা দিয়ে এদৃশ্য দেখে কিছু সময়ের জন্য বাকহারা হয়ে গেলো।কি হচ্ছেএই দেশে?এ দেশে নারীর মূল্যকি এতই কম?যার যখন যেমনে মন চাইবে অমনি নারীকে শোষণ করবে।কারো প্রেমের প্রস্তাবে রাজী না হলে তাকে কুপিয়ে মারতে হবে?কোনো পশুর যৌন কামনা জাগ্রত হলে সাথে সাথে তা নিবৃত্ত করার জন্য অবুঝ শিশুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে?নারীর উপর এত অমানবিক নির্যাতন করার পারমিশান তাকে কে দিল?সরকার কি এসব কিছুই দেখছেনা? চোখ মুখ বন্ধ করে সব কিছু হজম করার দিন অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে।

নারী নেত্রিরা মিছিল মিটিং করেন,রক্তাক্ত থাবা বন্ধ করো,শিশুদের নিরাপত্তা দাও।"কিছুদিন মিছিলে মিটিং এ রাজপথ উত্তাল, তারপর আবার যেই সেই।লোরা এ বিষয়টা নিয়ে ভীষণ চিন্তিত।শুধু শিশু বললে ভুল হবে,নারী মাত্রই অনিরাপদ।সেটা মাঝবয়সী বেঢপ চেহারার সখিনা খালাই হোক,সুন্দরী গরীব কিশোরী কন্যা,গৃহবধূ রোকেয়া কেউ নিরাপদ না।নষ্ট পুরুষ শুধু যোনী খুঁজে বেড়ায়।বয়স, চেহারা সেখানে বিষয় না।দুপুর ১২টার দিকে ধর্ষিতা শিশুটির মা,বাবা তার একমাত্র কন্যা সন্তানের লাস নিয়ে ফিরে এলেন।
ধর্ষক তখনও পিছমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় পড়ে ছিল ধর্ষিতার বাড়ীর উঠানে।এলাকাবাসী ধর্ষিতা শিশুটির দাফন কাফনের ব্যবস্থা করছেন।ধর্ষিতা শিশুটির মা বোবা হয়ে পাথরের মতো বসে থাকলেন কিছুক্ষণ তারপর আচমকা উঠে দাঁড়ালেন,ঘরের ভেতর থেকে চকচকে ছুরিটা এনে কাউকে কিছু বুঝে ওঠার সুযোগ না দিয়ে একপোঁচে কেটে নিল মাঝবয়সী বিকৃত রুচীর নষ্ট পুরুষের নষ্ট লিঙ্গ।ধর্ষিতা শিশুটির মা ধর্ষকের লিঙ্গ হাতে নিয়ে চিৎকার করে বলতে থাকে, এদেশে বদরুলদের বিচার হয়না,ধর্ষকরা ক'দিন জেল খেটে বীরের মতো ঘুরে বেড়ায়।হুমকি দেয় নির্যাতিতেই এলাকা ছাড়তে।

এখন থেকে ধর্ষণের শাস্তি একটাই, ধর্ষকের লিঙ্গ কর্তন।তবেই এ দেশে নারীর যোনী নিরাপদ থাকবে।শিশুরা বেঁচে যাবে ধর্ষণ ভয়,আতংক ও রক্ততাক্ত থাবা থেকে। লোরা মনে মনে এমন একটি সুবিচারই আশা করছিল।লোরাও ধর্ষিতা মায়ের সাথে একমত "ধর্ষণের বিচার একটাই ধর্ষকের লিঙ্গ কর্তন।"

লেখিকা: সিনিয়র শিক্ষিকা, সাউথ পয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজ,ঢাকা

কালেরকথা/বিডি

মন্তব্য করুন

Logo

সম্পাদক: মাসুম বিল্লাহ কাওছারী

সিডরো মিডিয়া গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে রিনা দাশ কর্তৃক উত্তরা রেসিডেন্সিয়াল এলাকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত

 01701703442   ||   info@dailykalerkotha.com