শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২০

শিরোনাম

  ঢাকা থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় দৈনিক কালের কথা পত্রিকার জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা,উপজেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী প্রার্থীরা ০১৭০১৭০৩৪৪২ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।  

পবিত্র মাহেরমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ একান্ত কাম্য


পবিত্র মাহেরমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ একান্ত কাম্য

প্রকাশিতঃ শনিবার, মে ১২, ২০১৮   পঠিতঃ 159138


আগামী বৃহস্পতিবার মহান পবিত্র রমজান মাসের প্রথম রমজান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে চাঁদ দেখার উপর এ তারিখ হের ফের হতে পারে  । রোজা আসার আগ থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়া যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। রোজা শুরু হতে কয়েক দিন  বাকি থাকলেও কোনো কোনো নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার খবর গণমাধ্যমে আসছে। রোজায় বাজার তদারকি শুরুর আগেই দ্রব্যমূল্য কয়েক দফা বাড়িয়ে দেয়ার এই কৌশল বিগত বছরগুলোতেও দেখা গেছে। রোজা শুরুর আগে বাজারের এই হালচাল আসলেই উদ্বেগ জনক। রমজানের সময় ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা, মসলা ইত্যাদি পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা মওকা বুঝে এ সময়টাতেই চাহিদা সম্পন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী। বড় ব্যবসায়ী থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সবার প্রবণতা এই সময় বেশি লাভ তুলে নেয়ার। এবারো সেই আলামত লক্ষ করা যাচ্ছে। রোজায় সবচেয়ে বেশি যে পণ্যের ব্যবহার বাড়ে সেটি হলো ছোলা। গত এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি ছোলার দাম বেড়েছে প্রায় ৬-১০ টাকা। কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৫-৮ টাকা। ছোলার দাম এ মুহূর্তে বাড়ার যুক্তি অগ্রাহ্য। চাহিদার তুলনায় ছোলার মজুদও পর্যাপ্ত। চিনি, তেল, আদা, পেঁয়াজ ইত্যাদি নিত্যপণ্যের দাম গত এক সপ্তাহে কিছুটা হলেও বেড়েছে। নিত্যপ্রয়জনীয় তরি তরকারির দামও ঊর্ধ্বমুখী। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত ৯ মাসে রমজানের প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের রেকর্ড পরিমাণ আমদানি হয়েছে। রোজা উপলক্ষে টিসিবি র পক্ষ থেকে  সারা দেশে ছোলা, চিনি, ডাল, খেজুর ও ভোজ্যতেল বিক্রি শুরু করার কথা। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে যাতে বাজারকে অস্থিতিশীল করতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখার কথা জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কর্মকর্তারা। অবশ্য এ সব তৎপরতা প্রতিবছরই দেখা যায়। রমজানে বেশি চাহিদাসম্পন্ন পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার এবং যে কোনো মূল্যে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সরকারের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকে ভোগ্যপণ্যের উৎপাদক ও বিপণনকারীরা আশ্বাস দেন রমজানে কোনো পণ্যের দাম বাড়বে না। কিন্তু এরপরও রমজানের আগে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। মানতেই হবে যে, অতীতের তুলনায় গত কয়েক বছরে রোজার সময় ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার মোটামুটি সফলতার পরিচয় দিয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এবার সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারকে আগের তুলনায় বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কাজেই রোজা শুরুর আগেই যাতে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর কৌশল বাস্তবায়ন করতে না পারে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে এখন থেকেই। রোজায় বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবির মাধ্যমে খোলা বাজারে পণ্য বিপণন, বাজার মনিটরিং ইত্যাদি যে সব পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে এগুলো যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। পণ্য পরিবহন নির্বিগ্নে রাখতে বিশেষ করে কৃষিপণ্যের সরবরাহে যাতে কোনো বাধার সৃষ্টি হতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে সংশ্লিষ্টদের। এর বাইরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি তদারকি অব্যাহত রাখতে হবে।

 

কালেরকথা/বিডি

মন্তব্য করুন

Logo

সম্পাদক: মাসুম বিল্লাহ কাওছারী

সিডরো মিডিয়া গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিঃ-এর পক্ষে রিনা দাশ কর্তৃক উত্তরা রেসিডেন্সিয়াল এলাকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত

 01701703442   ||   info@dailykalerkotha.com